বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন

কমান্ডারকে ঘুষ দিয়েও মিলছে না মুক্তিযোদ্ধা ভাতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ধামরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডারকে ঘুষ দিয়েও ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ এক মৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের।

ভাতার কার্ডের কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার কথা বলে মৃত ওই মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রীর কাছ থেকে উৎকোচ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান খান ও মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহেব আলীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবহিত করেছেন বলেও জানা গেছে।

অভিযুক্ত দুজনই টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, কাগজপত্র ঠিক করতে বিভিন্ন টেবিলে খরচের জন্য এ টাকা নেয়া হয়েছিল। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামসুল আলম (৭৫) চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। তার নামের ভাতার কাগজপত্র তার বিধবা স্ত্রী শাহানারা বেগম ও মেয়ে তানিয়া আক্তারের নামে করে দেয়ার কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহেব আলী ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান খান ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।

এরপরও তাদের ওই ভাতার কাগজপত্র ঠিক না করে তারা নানা ভাবে টালবাহানা করতে থাকেন। ফলে ভুক্তভোগীরা বুধবার এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামিউল হক ও ঢাকা-২০, ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহম্মেদের কাছে অভিযোগ করলে ঘটনাটি সর্বমহলে জানাজানি হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা কম্পাউন্ডে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সাহানারা বেগম বলেন, আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। সৎভাবে জীবন যাপন করায় তিনি অন্যদের মতো সম্পদের পাহাড় গড়তে পারেননি।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এ ভাতার টাকার ওপরেই আমাদের নির্ভর করতে হয়। এরপরও আমাদের সঙ্গে এতো টালবাহানা।

মৃত মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, বাবা একজন সৎ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাই আমাদের জন্য বেশি কিছু রেখে যেতে পারেননি। তাই তার ভাতার টাকার ওপরেই আমাদের ভরসা করতে হচ্ছে। কাগজপত্র ঠিক করার নামে টাকা হাতিয়ে নেন মুক্তিযোদ্ধা সাহেব আলী ও কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান খান।

মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহেব আলী বলেন, আমি টাকা পয়সা নেইনি। কাগজপত্র ঠিক করে দেয়ার খরচ হিসেবে কমান্ডার আব্দুর রহমানকে এ টাকা দেয়া হয়। এ টাকা ফেরত দেয়ার কথা হয়েছে। আমি তাকে ভাতার কাগজপত্র ঠিক করেও দিতে বলেছি।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আব্দুর রহমান বলেন, বিভিন্ন টেবিলে খরচ লাগে এসব কাগজপত্র ঠিক করতে। তাই এ টাকা নিয়েছিলাম। তবে টাকা ফেরত দেয়ার কথা হয়েছে। কাগজপত্রও ঠিক করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামিউল হক বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাগজপত্র ঠিক করতে কোনো টেবিলে টাকা পয়সা লাগে না। তারা দেশ স্বাধীন করেছেন তাই সবাই তাদের সম্মান করেন।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহম্মেদ বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। যারা জীবন বাজি রেখে এবং বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশ স্বাধীন করে গেল, আজ তাদের মৃত্যুর পর কাগজপত্র ঠিক করার নামে টাকা লাগার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com